ইছামতি
প্রকাশ : Mar 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক 'অসম যুদ্ধের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর, এই ধরনের "বিলিয়ন ডলার প্রতিদিন" ব্যয় হওয়া যুদ্ধের খবর মার্কিন জনমতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করাটাই স্বাভাবিক।

আপনার এই সংক্ষেপিত তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব একনজরে

বিষয়ের নামবর্তমান পরিস্থিতি / তথ্য
দৈনিক ব্যয়আনুমানিক ১০০ থেকে ২০০ কোটি (১-২ বিলিয়ন) ডলার।
প্রাথমিক ১০০ ঘণ্টার খরচপ্রায় ৩৭০ কোটি ডলার।
প্রধান ব্যয় খাতঅত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, জ্বালানি এবং ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা।
কৌশলগত ঝুঁকিতাইওয়ান সীমান্ত থেকে রণতরী সরিয়ে আনায় এশিয়ায় মার্কিন প্রভাব খর্ব হওয়ার আশঙ্কা।
রাজনৈতিক সংকট২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য সম্ভাব্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই জটিল বিপদে ফেলেছে, তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা (Cost Imbalance)

এটিই এখন ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। ইরান যে ড্রোন (যেমন: শাহেদ সিরিজের উন্নত সংস্করণ) বা সাধারণ মিসাইল ব্যবহার করছে, সেগুলোর একেকটির উৎপাদন খরচ কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ ডলার। অথচ এগুলো আকাশেই ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে SM-3 বা Patriot ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেগুলোর একেকটির দাম ২০ থেকে ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, ইরান খুব অল্প খরচ করে আমেরিকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ভাণ্ডার খালি করে দিচ্ছে।

২. অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জন ফিলিপস যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা অত্যন্ত ভয়াবহ। আমেরিকার কাছে অগাধ অর্থ থাকলেও তাদের সমরাস্ত্র তৈরির গতি সীমিত। গত কয়েক সপ্তাহে যে হারে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে, তা আমেরিকার বছরের পর বছর ধরে জমানো মজুতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই মজুত একবার ফুরিয়ে গেলে কেবল টাকা দিয়ে রাতারাতি তা তৈরি করা অসম্ভব, যা মূলত ইরানকে একটি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

৩. বৈশ্বিক ফ্রন্টে মনোযোগ বিচ্যুতি

হাউজ বাজেট কমিটির ব্রেন্ডন বয়েল যে প্রশ্নটি তুলেছেন তা আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার। ইরান উপকূলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রাখায় তাইওয়ান প্রণালী বা দক্ষিণ চীন সাগরে আমেরিকার উপস্থিতি শিথিল হয়েছে। বেইজিং এই সুযোগ নিতে পারে এমন আশঙ্কা ওয়াশিংটনকে এক ধরনের 'দ্বিমুখী সংকটে' ফেলেছে।

৪. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ব্যয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • জ্বালানির দাম: যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

  • বাজেট বনাম জনকল্যাণ: হাকিম জেফ্রিজের মতো ডেমোক্র্যাট নেতারা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে যুদ্ধের খরচের তুলনা করে যে প্রচার চালাচ্ছেন, তা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।


পরিশেষে: ইরান হয়তো সামরিক শক্তিতে আমেরিকার চেয়ে পিছিয়ে, কিন্তু তারা এই সংঘাতকে একটি 'স্থায়ী যুদ্ধের' (War of Attrition) রূপ দিয়ে আমেরিকার অর্থনীতি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। পেন্টাগন এখন যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক বাজেট চাইছে, তা অনুমোদিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে

১. ‘মিসাইল ইকোনমি’ বা খরচের ফাঁদ

ইরান এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় যে চালটি চেলেছে তা হলো সস্তা ড্রোন বনাম দামী মিসাইলের যুদ্ধ।

  • ইরানের খরচ: একেকটি শাহেদ ড্রোন বা সাধারণ মিসাইলের দাম মাত্র কয়েক হাজার ডলার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের খরচ: এগুলো ঠেকাতে পেন্টাগন যে SM-3 বা Patriot মিসাইল ব্যবহার করছে, তার একেকটির দাম ২০ থেকে ৯০ লাখ ডলার

  • পরিণতি: প্রতিদিন ১-২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এটিই প্রধান কারণ। ওয়াশিংটন হয়তো অর্থ জোগান দিতে পারবে, কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর মিসাইল রাতারাতি তৈরি করার সক্ষমতা কারো নেই।

২. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত ও 'body bags'

হাউজ মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিজের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • নির্বাচনী ঝুঁকি: ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনগণের করের টাকা বিদেশের যুদ্ধে ব্যয় হওয়া সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করছে।

  • জীবনযাত্রার ব্যয়: যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৩. বৈশ্বিক ফ্রন্টে ‘ফাঁকা মাঠ’ তৈরি

কংগ্রেসম্যান ব্রেন্ডন বয়েল যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তা অত্যন্ত গভীর। ইরানকে ঠেকাতে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিমানবাহী রণতরী সরিয়ে আনায় আমেরিকা সেখানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি চীনের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যা আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সামরিক বিপর্যয় হতে পারে।


পরিসংখ্যানের একনজরে বর্তমান সংকট

খাতের নামবর্তমান অবস্থা (২০২৬ মার্চ)
দৈনিক যুদ্ধ ব্যয়$১০০ - ২০০ কোটি ডলার
অপারেশনাল বাজেট$৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আবেদন (প্রস্তাবিত)
শত্রু নিধন পদ্ধতিসস্তা ড্রোন বনাম $৩ মিলিয়ন মূল্যের ইন্টারসেপ্টর
জ্বালানি প্রভাবতেলের দাম ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধির পূর্বাভাস




মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেছেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহম

1

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড

2

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

3

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

4

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

5

বনানীতে যুবদল নেতা রনির বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভি

6

ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক 'অসম যুদ্ধের

7

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

8

খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে লন্ডন ক্লিনিকের মেড

9

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

10

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

11

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

12

হামাস জিম্মিদের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হ

13

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

14

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

15

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

16

‘সাংবাদিকদের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে’ — জাতীয় প্র

17

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

18

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

19

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

20