বনানীর প্রতিনিধি
রাজধানীর বনানী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দলীয় পদ দখল, চাঁদাবাজি ও সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মইনুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে রনি ও তার অনুসারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
নেতৃত্ব দখল ও দলীয় কোন্দল
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, বনানী থানা বিএনপির আহ্বায়ক বহিষ্কার হওয়ার পর গঠনতান্ত্রিকভাবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ‘অদৃশ্য ইশারায়’ ও পেশিশক্তির জোরে মইনুল ইসলাম রনি পদটি দখলে নেন। ত্যাগী কর্মীদের অভিযোগ, রাজনীতির দাবা খেলায় বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন মাঠপর্যায়ের পরীক্ষিত নেতারা।
দখলদারিত্বের রাজত্ব
রনি ও তার ভাই জনির বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি:
* ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল: যুব মহিলা দল কর্মী আসমা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছর জেল-জুলুম সহ্য করেও এখন দলের নাম ভাঙানো নেতাদের হাতেই তাদের পারিবারিক দোকান হারাতে হয়েছে।
* সরকারি জায়গা দখল: টিঅ্যান্ডটি মাঠ সংলগ্ন দুটি গোডাউন এবং বনানীর বস্তি এলাকায় সার্ভিসিং সেন্টার ও দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে রনির বিরুদ্ধে।
* মাদক ও চাঁদাবাজি: মহাখালী ও বনানীর পশ্চিমপাড়া এলাকায় রনির ভাই জনি ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। জনির বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও মুখে মুখে।
> "১৬ বছর নির্যাতন সহ্য করেছি ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু এখন দেখছি আমাদের নিজেদের লোকেরাই আমাদের দোকান দখল করে নিচ্ছে।"
> — আসমা বেগম, ভুক্তভোগী কর্মী
তৃণমূলের ক্ষোভ
সরেজমিনে বনানী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ নেতা-কর্মীদের মুখে হতাশার ছাপ। অনেকের দাবি, রনি ৫ আগস্টের আগে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে সক্রিয় ছিলেন, অথচ এখন ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মইনুল ইসলাম রনি, তার ভাই জনি এবং লিটনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
এলাকাবাসীর দাবি: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় হাইকমান্ড যেন দ্রুত এই দখলদারিত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।